https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশুক্রবার , ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হত্যার মামলাঃ ডিবিতে হস্তান্তর

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ৩, ২০২২ ৫:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নারায়ণগঞ্জে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হত্যার মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কোনও কারণ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুবায়ের ছাড়া অন্য কেউ জড়িত আছে কি-না তাও দেখছে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। রিমান্ড শেষে বলা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রথম দিনে জঙ্গি সম্পৃক্ততা সন্দেহে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে এ বিষয়ে তারা কিছু পায়নি।’

এ ঘটনায় বুধবার (২ মার্চ) পুলিশ বলেছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জুবায়ের হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। টাকা-পয়সার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় ছয়তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন, রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তার মেয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী (২২)। ঘটনাস্থল থেকে জুবায়ের নামে এক যুবককে রক্তমাখা ছুরিসহ আটক করে পুলিশ। ওই যুবক শহরের পাইকপাড়া এলাকার লবণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

বুধবার দুপুরে নিহত রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে আল জুবায়ের সপ্নীল ওরফে জুবায়েরকে (২৬) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। একইদিন আদালতে আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রামপ্রসাদের পুত্রবধূ শিলা মামলার এজাহারের এক অংশে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে এক যুবক (জুবায়ের) রুমা ও ঋতুকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে। শিলাকে হত্যার জন্য রান্নাঘরে বটি হাতে নেন হামলাকারী। তবে কৌশলে সেই বটি ছিনিয়ে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে নিচে নামেন। হামলাকারী ওই যুবক তাকে ধাওয়া করে নিচে নামেন, তবে ততক্ষণে ভবনের অন্য লোকজন টের পেয়ে বাইরে থেকে ফটক আটকে দেয়। ওই যুবক ফের ছয় তলার ফ্ল্যাটে ফিরে যান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে এবং লাশ উদ্ধার করে।

নিহত রুমার স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের মেয়ে ঋতুর স্বামীর নাম শ্যামল ভট্টাচার্য। তিনি চাকরি সূত্রে চট্টগ্রামে থাকেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় কিছু দিন ধরে মায়ের সঙ্গে ছিলেন ঋতু।