https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশুক্রবার , ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মিরপুরে প্রাণ ফিরেছে, স্টেডিয়ামের বাইরেও উৎসব

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ৩, ২০২২ ৫:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ক্রিকেট মাঠের প্রাণ দর্শক। কিন্তু কয়েক বছর মাঠে সেই প্রাণের সঞ্চার ছিল না। করোনার থাবায় স্টেডিয়ামগুলো প্রাণহীন হয়ে উঠেছিল। অবশেষে ৭২১ দিন পর মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাণ ফিরেছে। দর্শকদের চিৎকারে ভুলে যাওয়া দিনে ফিরে গেলেন অনেকেই!

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর সময় হয়েছিল বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ। ভরা গ্যালারিতে ওটাই ছিল সর্বশেষ সিরিজ। এরপর করনোর কারণে বেশ কিছুদিন খেলা বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হলেও দর্শকহীন মাঠে খেলা গড়ায়। মাঝে কিছুদিন দর্শক ফেরালেও গ্যালারি তার আগের রূপে ফেরেনি। অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর চেনা রূপে ফিরেছে মিরপুরের গ্যালারি।

৭২১ দিন পর ভরা গ্যালারিতে উৎসব করতে ম্যাচ শুরুর অনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামের সব গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সবার স্বপ্ন একটাই- আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টানা ৮ ম্যাচ হারের বৃত্ত ভাঙবে বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশ দল ব্যাটিং নিয়েছে, খেলা শুরুও হয়ে গিয়েছে, সেসময়ও স্রোতের মতো স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছেন দর্শকরা। দীর্ঘদিন পর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও মিরপুরের সেই উল্লাস হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন। লিটন-মুনিমদের চার-ছক্কায় গ্যালারিতে আনন্দ নৃত্য করেছেন দর্শকরা।

টঙ্গী থেকে শাহরিয়ার নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলা দেখতে এসেছেন। হাঁটতে পারেন না, তারপরও সাকিব-তামিমদের সমর্থন দিতে তার ছুটে আসা। সহযোগী একজনকে নিয়ে সকালেই টঙ্গী থেকে বাসযোগে মিরপুরে আসেন তিনি। ম্যাচ শুরুর তিন ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটে অপেক্ষায় থাকেন।

কেন এত কষ্ট করে তার মাঠে আসা? শাহরিয়ার বললেন, ‘আমার পা নেই, কষ্ট তো হবেই। তবু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসি বলেই এমন কষ্ট করা। সাকিবকে ভালোবাসি। তাদের সমর্থন জানাতে মাঠে আসা। বাংলাদেশ ভালো খেলুক আর খারাপ খেলুক, তাতে কী? আমাদের দেশ তো নাকি! কষ্ট হলেও আজ বাংলাদেশের জন্য গ্যালারিতে বসে গলা ফাটাতে পারবো, ভেবে ভালো লাগছে।’

দীর্ঘদিন পর দর্শকদের জন্য পুরো গ্যালারি উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাতেই খুশির জোয়ার বইছে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। ম্যাচের আগের দিন লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করার পর ম্যাচের দিনেও লাইনে দাঁড়িয়ে মাঠে ঢোকা- এই কষ্ট আনন্দের কাছে হার মেনেছে।

স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় ছিলেন একটি গ্রুপ। ১০-১২ জনের এই গ্রুপের একজন সাদিদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘পাকিস্তান সিরিজেও খেলা দেখতে এসেছিলাম। ভালো লাগেনি মরা মরা গ্যালারি ছিল। এবার পুরো গ্যালারি আমাদের। বাংলাদেশের জন্য চিৎকার করবো। এই কারণেই বন্ধুরা সব মাঠে এসেছি।’

ফাহিম নামের এক শিক্ষার্থী হাতে লাল রঙের মার্কার নিয়ে ঘুরছিলেন। যাকেই পাচ্ছেন তার গালে ক্রিকেটারের নাম লিখে দিচ্ছেন, বাংলাদেশের পতাকা এঁকে দিচ্ছেন। ফাহিমের তাতেই অনেক আনন্দ। খুশি মনে যে যা দিচ্ছে তাই পকেটে ঢোকাচ্ছেন ফাহিম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘এই যে সবাই মিলে আনন্দ করে খেলা দেখতে আসছে। এটা দেখেই তো ভালো লাগছে। আমি তাদের আনন্দে শামিল হচ্ছি কেবল। মাঠের প্রাণ দর্শক, দর্শক ছাড়া খেলা হয় নাকি! আশা করবো এখন থেকে আমাদের গ্যালারিগুলো আগের মতোই হয়ে যাবে।’

শুধু ফাহিম নন, তার মতো অনেকেই আছেন, যারা ক্রিকেটের পাঁড় ভক্ত। তাদের কারণেই ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে। রাসেল নামের একজন বড় একটি কাগজের বাক্সে বাংলাদেশের ১০০ জার্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটের সামনে। আধঘণ্টার মধ্যে তার জার্সি বিক্রি শেষ! মাত্র ১০০ টাকা মূল্যের এই জার্সি ক্রিকেটপ্রেমীরা লুফে নিয়েছেন। রাসেল জানালেন, ‘আমি হকারি করি। ম্যাচ উপলক্ষে কিছু জার্সি নিয়ে এখানে এসেছি। অল্প দামে ছেড়ে দিয়েছি সব। নিয়মিত খেলা হলে আমাদেরও কিছু আয় রোজগার হয়।’

রাসেলর মতো অনেক হকারই স্টেডিয়ামের সামনে পতাকা-জার্সি-ক্যাপ-ব্রেসলেট নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিকিকিনি নিয়ে সবাই সন্তুষ্ট। মিরপুরে কোনও ম্যাচ হলেই রাস্তায় পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে যান ফরিদ নামের এক বৃদ্ধ। বিপিএল তাকে হতাশ করেছিল। এবার গ্যালারিতে দর্শক ফেরায় খুশি তিনি।

মিরপুরের ২২ গজে লড়ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে গ্যালারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন দর্শকরা। বহুদিন পর এমন দৃশ্য নিশ্চিতভাবেই মাহমুদউল্লাহদের অনুপ্রেরণা জোগাবে!