Saturday 24th September 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

রাশিয়া ভ্যাকুয়াম বোমা দিয়ে ইউক্রেনে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে

মার্চ ৩, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী ভ্যাকুয়াম অথবা থারমোবারিক বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ। এটি সাধারণ কোনও অস্ত্র নয়। খুবই বিপজ্জনক। ভ্যাকুয়াম বোমা উচ্চচাপ তৈরি করে আশপাশের অক্সিজেন টেনে নিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। ইউক্রেনে এই বোমা ব্যবহারের অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে। যদিও এর সত্যতা এখনও মেলেনি।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ইউক্রেনে ভয়াবহ থার্মোবারিক রকেট লঞ্চার মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এটি সম্ভাব্য সংকেত যে রুশ বাহিনী লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীনের পর জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিতে মারাত্মক অস্ত্র প্রস্তুত করছে।

ইউক্রেন ভূখণ্ডে মস্কো এই ভয়ংকর অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও সত্যতা বের করতে পারেনি। কিন্তু ভূ-পর্যবেক্ষক, ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলো গত সোমবার জানিয়েছেন, রাশিয়া ভ্যাকুয়াম অথবা থারমোবারিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে।

এর ভয়াবহতা সম্পর্কে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএ এবং সাবেক উপ-সহকারী মন্ত্রী মিক মুরলয় বলেছেন, বোমার সরাসরি প্রভাবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের মৃত্যু হবে না। আশপাশের বাতাসে থাকা সব অক্সিজেন টেনে নিবে। এবং কাছাকাছি মানুষের ফুসফুস থেকে অক্সিজেন চুষে নেয়। এটা ভয়াবহ’।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের কিয়েভে নির্ভুল হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইতোপূর্বে রাশিয়া এমন অস্ত্রের ব্যবহারের অভিজ্ঞা রয়েছে। ১৯৯০ ও ২০০০ এর প্রথম দিকে চেচনিয়া যুদ্ধের সময় রাশিয়া এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে বলে জানা যায়। এমনকি ২০১৮ সালের দিকে সিরিয়ার ঘৌতা শহর পুনরুদ্ধারে একই অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র গুলো অনেক দূর থেকেই শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন জ্যেষ্ঠ গবেষক দারা ম্যাসিকট। এ নিয়ে শুক্রবার ফরেন পলিসিকে বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোর উপকণ্ঠে রকেট ব্যবহারের দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি’।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন ধারণা করছে, রাশিয়া এ পর্যন্ত চার শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনে। এর অধিকাংশই স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপাণাস্ত্র। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক টিওএস-১ ভারী অগ্নি-বর্ষক (ফ্লেমথ্রোয়ার) মোতায়েন করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রাশিয়ার ভেতর থেকে পাওয়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে থার্মোবারিক রকেট লঞ্চার মোতায়েন করা হয়েছে। এই অস্ত্র মানবদেহকে বাষ্পীভূত করতে সক্ষম। ভিডিও ফুটেজটি টুইটারে প্রকাশ করেছে সিএনএন প্রতিনিধি ফ্রেডেরিক প্লেইটজেন। এতে টিওএস ফ্লেমথ্রোয়ার দেখা গেছে। যা টি-৭২ ট্যাংকের চ্যাসিসে বসানে থারমোবারিক রকেট থেকে এটি ছোড়া যায়।

গার্ডিয়ান জানায়, সোভিয়েত আমলে আফিগানিস্তানে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল টিওএস-১। এছাড়া চেচনিয়া ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়ও এই অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। এটি দুই ধরনের ওয়ারহেড ছুড়তে পারে – অগ্নিসযোগকারী ও ফুয়েল-এয়ার এক্সপ্লোসিভস। দ্বিতীয়টিকে বলা হয়েছে ভ্যাকিউম বা থারমোবারিক রকেট। উচ্চ তাপমাত্রার বিস্ফোরণের জন্য এটি আশেপাশের বায়ু থেকে অক্সিজেন ব্যবহার করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন এই মুহূর্তে ইউক্রেনীয় সেনারা নয়, বরং রুশ বাহিনীর মনোবলের সমস্যায় ভুগছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, রাশিয়ার দেড় লক্ষাধিকের বেশি আক্রমণকারী সেনাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক যারা ইউক্রেনে সীমান্তে ছিল। তাদের ৮০ শতাংশের বেশি যুদ্ধের ময়দানে নামানো হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই তরুণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.