https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশনিবার , ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ইউক্রেনে হামলার শিকার নাবিকরা দু-একদিনের মধ্যেই ফিরছেন

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ৭, ২০২২ ৭:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের ২৮ নাবিক ও ক্রু দু-একদিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা রোমানিয়ায় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন। ইউক্রেন থেকে মলদোভা হয়ে তারা রোমানিয়ায় পৌঁছেছেন।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী বলেন, ‘আটকে পড়া ২৮ নাবিক ও ক্রু এখন রোমানিয়ার দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে ভালো আছেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার) কিংবা বুধবার তারা দেশে ফিরতে পারেন বলে আশা করছি।’

এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা ইউক্রেন থেকে রোমানিয়ায় নিরাপদে পৌঁছাতে পারায় নাবিকদের স্বজনদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের লাশ এখনও সংরক্ষণ করা আছে ইউক্রেনের একটি হাসপাতাল মর্গে। কবে নাগাদ তার লাশ দেশে আনা হবে এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না বিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. ওমর ফারুক তুহিনের ছোট ভাই ওমর শরীফ তুষার সোমবার সকালে বলেন, ‘আমার ভাই তুহিন ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। রোমানিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে তারা (২৮ নাবিক-ক্রু) বর্তমানে অবস্থান করছেন। রোমানিয়ায় পৌঁছার পর ভাইয়ের (তুহিন) সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা সবাই ভালো আছেন। শিগগিরই তারা দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।’

বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পার্সোনাল) ক্যাপ্টেন আমীর মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘২৮ নাবিক ও ক্রুকে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দূতাবাস। আশা করি খুব শিগগিরই তারা দেশে ফিরবেন।’

১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের বাল্ক ক্যারিয়ার বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ তুরস্ক থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরের জলসীমায় নোঙর করে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হলে অলিভিয়া বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। জাহাজটি ২৯ জন নাবিক ও ক্রু নিয়ে ওখানেই নোঙর করা অবস্থায় আটকে পড়ে। বাংলাদেশ সময় ২ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিট ও ইউক্রেন সময় ৫টা ২৫ মিনিটে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিস্ফোরণে মারা যান জাহাজটির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জাহাজে আটকে থাকা বাকি নাবিক ও ক্রুরা। এরপর টাগবোটের সাহায্যে ওই নাবিক ও ক্রুদের ৩ মার্চ সন্ধ্যায় তীরে আনা হয়। তাদের রাখা হয় ইউক্রেনের অলভিয়া এলাকার একটি বাংকারে। সেখান থেকে ৫ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সড়কপথে যাত্রা শুরু করে ৬ মার্চ সন্ধ্যায় তারা রোমানিয়ার একটি হোটেলে পৌঁছেন।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের নাবিক ও ক্রুরা হলেন, জি এম নুর ই আলম, মো. মনসুরুল আমিন খান, সেলিম মিয়া, রমা কৃষ্ণ বিশ্বাস, মো. রুকনুজ্জামান রাজিব, ফারিয়াতুল জান্নাত তুলি, ফয়সাল আহমেদ সেতু, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সৈয়দ আসিফুল ইসলাম, রবিউল আউয়াল, সালমান সরওয়ার সামি, ফারজানা ইসলাম মৌ, মো. শেখ সাদি, মো. মাসুদুর রহমান, মো. জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ হানিফ, মো. আমিনুর ইসলাম, মো. মহিন উদ্দিন, হোসাইন মোহাম্মদ রাকিব, সাজ্জাদ ইবনে আলম, নাজমুল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম, সরওয়ার হোসাইন, মো. মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ হোসাইন, মো. শফিকুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।