https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশনিবার , ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

৮ই মার্চ নারী দিবসে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ৮, ২০২২ ১:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসমাম হোসাইন

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশেও প্রতিবছর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে এ দিনটি। বর্তমান সমাজে পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। এ সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারীর অবদান রয়েছে। তবুও নারীরা আজ ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়, দিন দিন বেড়েই চলছে নারীর প্রতি সহিংসতা।

এদেশে এখনো নারীরা একা পথ চলতে ভয় পায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই কুৎসিতরূপী ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা। উচ্চশিক্ষা অর্জনে ও নারীরা বাধার মুখে পড়ছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের নারীরা। নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের কাজের প্রশংসা, ভালবাসা প্রকাশ করে এই দিনটিকে পালন করা হয়। নারী দিবস উপলক্ষে নারী শিক্ষার্থীর ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেছে জাগো নিউজ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন মোঃ ইসমাম হোসেন মবিন-

মার্জিয়া মায়া, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বিশ্বের প্রতিটি দেশে সংগ্রামী নারীদের কাছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস তাদের নিজস্ব দাবি প্রতিষ্ঠার দিবস হিসেবে স্বীকৃত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নারী পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণসহ ন্যায্য অধিকার আদায়ের ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বী নারী সংগঠনগুলো ও একমত। আর এ এক সত্যের প্রেরণার উৎস ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

দীর্ঘ প্রায় দশ দশক ধরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের অধিকার সচেতন সংগ্রামী নারী সমাজ এ দিনটিকে নিজের অধিকার রক্ষার দিন হিসেবে পালন করে আসছে। এখনো নারীদের তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়। আমরা এখনো এমন সমাজে বসবাস করছি যেখানে একজন নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটা বিপদজ্জনক।

পুরুষ কি নারী ছাড়া জীবন কল্পনা করতে পারে? পৃথিবী মানে নারী ছাড়া কিছুই নয় তাদের সাহস যা আশ্চর্যজনক কোমলতার সঙ্গে নিখুঁত। যেখানে নারী আছে সেখানেই জাদু আছে। প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি হৃদয়, প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি মুহূর্ত নারী ছাড়া অসম্পূর্ণ। কেবল নারী পারে বিশ্বকে সম্পূর্ণ করতে। নারীকে এ পৃথিবীকে দুর্দান্ত করে গড়ে তোলার জন্য উপর থেকে পাঠানো আর্শীবাদ।

জীবন যদি রংধনু হয় তবে নারী তার রঙের বাহার, জীবনে যদি নামে আঁধার, নারী হয়ে উঠে আশার আলো। পুরুষের ধারণা নারী শুধু ঘর সামলাবে রান্না করবে। কিন্তু পুরুষ এটা জানে না যে নারী রাঁধে সেই আবার চুল বাঁধে। সভ্যতার গোড়াপত্তন ও তার ক্রমবিকাশে নারীর ভূমিকা পুরুষের থেকে কম নয়। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারী পুরুষের সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত।

নারীদের সুরক্ষিত রাখা, তাদের রক্ষা করা ও তাদের পক্ষে লড়াই করা খুবই দরকার। নারী অনেক কিছু করা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে প্রশংসায় ব্যর্থ হয়। নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার পেলে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস যথাযথ মর্যাদা পাবে অর্জিত হবে নারী দিবসের লক্ষ্য। আসুন আমরা আপনারা সকলে মিলে-মিশে নারীকে সমর্থন করি। তারা যা কিছু করে তা শ্রদ্ধা করি।

নাজমা আক্তার,আইন বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
নারীরা আজ দশ হাতে ঘরে বাইরের সমস্ত কাজ সামলাচ্ছে। ছেলেদের থেকে কোনো অংশেই তারা আর পিছিয়ে নেই। তাই আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবসও পালন করা হয় সারা বিশ্বে। ৮ মার্চ সারাবিশ্বে বিভিন্ন ভাবে পালন করা হয় এই দিনটি। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।

রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনীতি সব জায়গায় আজ নারীরা সাফল্য অর্জন করেছে। তাই এই দিনটিকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে পালন করা হয়। নারী দিবস হচ্ছে- জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দিন।

এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে। একটা সময় নারী শব্দের অর্থ ছিল ‘অবলা’ আর অবলা শব্দের অর্থ ‘অসহায়’। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা ছিল অসহায়!

কালের আবর্তনে সময়ের ব্যবধানে নারীরা আজ নিজ গুণে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিটি পরিবার যদি নারীদের পাশে দাঁড়ায়, তাদেরকে মুক্ত বলাকার মতো উড়তে সাহায্য করে তাহলে নারীরা সকল ক্ষেত্রেই বিশ্ব জয় করতে সক্ষম হবে। আমি একজন নারী আমার মনে হয় প্রতিটি মেয়েরই উচিত নিজেকে গড়ে তোলা।

শিক্ষার কোনো বয়স নেই সুযোগ পেলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ কেননা একটা মেয়ে বিয়ে করে সংসারী হওয়ার থেকেও জরুরি আগে নিজেকে স্বাবলম্বীতা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ও আপন পরিচিতি তৈরি করা। সারা বছর যারা সবার কাছে অবাঞ্চিত, এই নারী দিবসের দিনটিতে তারা সবার কাছে স্পেশাল! শুধুমাত্র ৮ মার্চ নারী দিবসের একটি দিন নয়, পুরুষের পাশাপাশি নারীকে সম্মান করা উচিত সকল ক্ষেত্রেই।

উম্মে আরা মাহিনুর ইস্তিয়া, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন যেমন অসম্ভব, তেমনি নেতৃত্বে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া লিঙ্গ সমতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। লিঙ্গ অসমতা ও দুর্নীতি পরস্পর সম্পর্কিত।

লিঙ্গ অসমতা সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনকে বাধাগ্রস্ত করে। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাহত হয়। যেসব দেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষময়তায়ন সাফল্যজনক, সেসব দেশসমূহ দুর্নীতি প্রতিরোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে নারীর ক্ষমতায়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। আবার দুর্নীতির কারণে পুরুষের তুলনায় নারীর ঝুঁকি বেশি।

সুমাইয়া আক্তার ইভা, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
তিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয় নারী সম্পর্কে সমাজকে সচেতন করতে। নারীর অধিকার, স্বাধীনতা ও তাদের প্রতি সম্মান জানাতে। বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনকে নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রয়োজনই পড়তো না যদি নারী অধিকার কিংবা নারী স্বাধীনতা বজায় থাকতো।

প্রতিনিয়ত নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে, ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। যার ফলে নারীরা বাধ্য হচ্ছে আত্মহত্যা করতে। নারী পুরুষের সমান অধিকার স্লোগান দিলেও নারীদের নিপীড়িত হতেই দেখা যায়। শেষ হোক সব বৈষম্য বঞ্চনা। প্রতিটি দিন হোক নিরাপদ। নারী হয়ে উঠুক শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এই হোক অঙ্গিকার, নারী হোক আগামীর কান্ডারী।

ফাহমিদা আক্তার ইমা, ফার্মেসি বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
পৃথিবীর শুরু থেকেই নারীরা অবহেলিত। নারীর অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন হচ্ছে পরিবার ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। বিশ্বে নারীরা অনেক এগিয়ে আছে যেটা আমাদের দেশে কম নয়। স্বাধীনতার ৫ দশকে অগ্রগতি বলা বাহুল্য। যদিও আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ, দরিদ্রতা, বখাটের উৎপাত নানা কারনে শিক্ষা ব্যাহত হলেও সাধারণ শিক্ষা, পেশাগত শিক্ষা, মেডিকেল যে কোনো শিক্ষায় ছেলেদের থেকে মেয়েরা কম নয়।

দরিদ্র পরিবার এখন মেয়েদের পড়ানোর জন্য জোর দিচ্ছে। উদাহরণ সরুপ বাল যায়, ডক্টর সেঁজুতি সাহা করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স আবিষ্কারকারী বাংলাদেশি অনুজীব বিজ্ঞানী তিনি WHO এর পরামর্শক যেটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের। তবুও এতো অগ্রগতি হওয়ার পর নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে নারীরা। নারী দিবসে এসে এটাই বলতে চাই নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও সম্মান নারীর নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সোচ্চার ও জাগ্রত হতে হবে। কারণ একটা দেশের উন্নয়ন নারী পুরুষ উভয়ের অংশীদার।