Saturday 24th September 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

কেন এত ঝুঁকি নিয়ে খেলছিলেন, জানালেন সাকিব

মার্চ ১৯, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

‘প্যাসেঞ্জার’ হয়ে থাকতে চান না বলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতেই চাচ্ছিলেন না সাকিব আল হাসান। মানসিক ও শারীরিকভাবে ফিট হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। এরপর কয়েক দফা ‘নাটক’ শেষে সবার পরে দক্ষিণ আফ্রিকা গেছেন তিনি। গিয়েই করলেন বাজিমাত। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভর করে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৩১৪ রানের বড় সংগ্রহ পায়।

শুক্রবার সেঞ্চুরিয়নে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। গত ২০ বছরে যা হয়নি, সেটাই করে দেখিয়েছে এবারের লাল-সবুজের দল। ৩৮ রানে জয়ে বড় অংশে জুড়ে ছিলেন সাকিব। শুরুতে ধীরস্থিরভাবে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আগ্রাসী রূপে দেখা যায় এই অলরাউন্ডারকে। এমন আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে গিয়েই মূলত ৭৭ রানের ইনিংসের সমাপ্তি হয় বাঁহাতি এই ব্যাটারের।

তামিম ইকবাল ও লিটন দাস শুরু করেছিলেন বেশ সতর্কভাবে। রান তোলার চেয়ে উইকেটে সময় কাটানোতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন তারা। তারপরও দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব গড়ে তোলেন প্রতিরোধ। শুরুতে ধীরগতিতে খেলেন দুজনে। থিতু হয়ে শুরু করেন স্ট্রাইক রোটেটের সঙ্গে ছড়ান চার-ছক্কার ফুলঝুরি।

প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ২০ রান দেওয়া রাবাদা ৩৯ ও ৪১তম ওভারে দেন ১৯ রান। তখন ক্রিজে ছিলেন সাকিব-ইয়াসির। সাকিব থামেন ৭৭ রানে আর ইয়াসির ৫০ রানে। ‍দুজন মিলে ৮২ বলে ১১৫ রানের জুটি গড়েন। যা দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যেকোনও উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। রাবাদা যেন পরে সুযোগ না পান, সেই কারণেই আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন সাকিব-ইয়াসির জুটি।

মূলত ডেথ ওভারে রাবাদার বোলিং যেন না থাকে সেই পরিকল্পনা মাথায় খেলেছিল সাকিবের, ‘আমি ভাবছিলাম ওই সময়ই দ্রুত রান করা উচিত ছিল। তা না হলে আমরা ২৬০-২৭০ রানের বেশি করতে পারতাম না। আমরা যে ছন্দটা পাই ৩০ ওভারের সময়, ওটাই ম্যাচের চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আমরা জানতাম যে ডেথ ওভারে রাবাদা তিন-চার ওভার বোলিং করবে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম যেন তারা রাবাদাকে আগে বোলিং করাতে বাধ্য হয়। সেজন্যই আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। এটাই আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।’

সেঞ্চুরিয়নের উইকেট নিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘আমি ৭-৮ বল খেলার পর বুঝতে পারি যে উইকেটটা ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো। আমাদের ৩০০-এর কাছাকাছি রান করতে হতো। আমাদের শুরুটাও ভালো হয়েছে। লিটন-তামিম ভালো শুরু এনে দিয়েছে। আমাদের জন্য ছন্দটা ধরে রাখা উচিত ছিল। কারণ নতুন বলের উজ্জ্বলতা চলে যাওয়ার পর রান করা সহজ মনে হচ্ছিল। সেই সুবিধাটাই নিতে চেষ্টা করেছি। ভাগ্য ভালো সেটা কাজে লেগেছে।’

শুক্রবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে ইয়াসির পেয়ে যান প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা। ৫০ রানের ইনিংস খেলা ইয়াসিরকে কৃতিত্ব দিতে ভুললেন না সাকিব, ‘ইয়াসির খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ওর সঙ্গে আমার জুটিটা ভালো ছিল। ইয়াসিরকে কৃতিত্ব দিতেই হয়। কারণ সে তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ম্যাচ খেলছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে। এটা তার জন্য সহজ ছিল না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.