https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশুক্রবার , ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ইউক্রেনে কী তুরস্ক রুশ এস-৪০০ মোতায়েন করবে?

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ২০, ২০২২ ৭:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইউক্রেনে রুশ নির্মিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে তুরস্কের কাছে পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। রাশিয়ার চলমান আক্রমণ মোকাবিলায় ইউক্রেনকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই আলাপ তুলেছে বাইডেন প্রশাসন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তুরস্কের কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও অনুরোধ জানানো হয়নি। এই মাসের শুরুতে মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন্ডি শেরম্যানের তুরস্ক সফরেও রুশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনে মোতায়েনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে ইউক্রেনে রুশ নির্মিত অস্ত্র এবং এস-৩০০ ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের কথা বলে আসছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রুশ হামলা মোকাবিলায় কিয়েভকে সহযোগিতার উপায় খুঁজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক নিশ্চিতভাবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ইউক্রেনকে আরও বেশি সমর্থন ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে তুরস্কের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উইন্ডি শেরম্যানের বিস্তৃত আলোচনার অংশ ছিল এই প্রস্তাব।

ইউক্রেনে এস-৪০০ মোতায়েন সংশ্লিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শ বা প্রস্তাবের বিষয়ে তুর্কি কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করেনি। দুই ন্যাটো মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের দীর্ঘ দিনের বিরোধের মূলে রয়েছে এই রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এই বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স। তবে তুর্কি সূত্র ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন যে কোনও পরামর্শ তুরস্কের পক্ষ থেকে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ইউক্রেনে এস-৪০০ মোতায়েন ও সেগুলো পরিচালনায় কারগরি জটিলতার কথা তুলে ধরা হতে পারে। একইসঙ্গে মস্কোর পক্ষ থেকে পাল্টা পদক্ষেপের মতো রাজনৈতিক উদ্বেগও তুলে ধরতে পারে আঙ্কারা।

তুরস্ককে নিজেদের বলয়ে নিতে চাইছে ওয়াশিংটন

ওয়াশিংটন বার বার রুশ নির্মিত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার থেকে তুরস্ককে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০-এর উপাদানগুলোর প্রথম চালান সংগ্রহ করে তুরস্ক। এগুলো কেনার কারণে আঙ্কারার প্রতিরক্ষা শিল্পে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে তুরস্ককে বাদ দেয় ওয়াশিংটন।

আঙ্কারার দাবি, তাদেরকে এস-৪০০ কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ মিত্ররা সন্তোষজনক শর্তে অস্ত্র সরবরাহ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেন যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে তুরস্ককে আরও জোরালোভাবে ওয়াশিংটনের বলয়ে নিয়ে আসতে মরিয়া। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক সৃজনশীল উপায়ে জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রস্তাব মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি দুই পক্ষের।

তুরস্কের একটি সম্প্রচারমাধ্যমকে ৫ মার্চ উইন্ডি শেরম্যান বলেন, আমি মনে করি সবাই জানে যে, আমাদের দীর্ঘ বিরোধের মূলে রয়েছে এস-৪০০। হয়তো এখন সেই সময় এসেছে যখন আমরা এই সমস্যা সমাধানের একটি নতুন উপায় বের করতে পারবো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শেরম্যান কোন বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয় এবং তার এই মন্তব্যের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। তার তুরস্ক সফরের সময় এস-৪০০ মোতায়েনের পরামর্শ নিয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে অনুরোধ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আহ্বানে বাইডেন প্রশাসনের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ এই পরামর্শ। জেলেনস্কি এই আহ্বান জানানোর পর ন্যাটো মিত্রদের কাছে থাকা এস-৩০০ এর মতো রুশ বা সোভিয়েত নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা শুরু হয়।

তুরস্কের কৌশলী অবস্থান

মার্কিন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ইউক্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় আঙ্কারা যখন কিছুটা ক্ষুব্ধ তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্ক ফের জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের বিষয়ে আগে থেকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে কোনও তথ্য পাননি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান।

কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে সমুদ্রসীমা রয়েছে তুরস্ক। দেশ দুটির সঙ্গে রয়েছে তাদের ভালা সম্পর্ক। তুরস্কের পক্ষ থেকে আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য এবং ইউক্রেনের সমর্থনে সোচ্চার হতে দেখা গেছে। তবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করেছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কোকে ক্ষুব্ধ না করে ইউক্রেন নিয়ে সতর্কভাবে বক্তব্য হাজির করছে তুরস্ক। রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও পর্যটন খাতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কিয়েভের কাছে সামরিক ড্রোন বিক্রি করেছে আঙ্কারা। আরও বেশি ড্রোন বিক্রির একটি চুক্তিরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তুর্কি কর্মকর্তারা, যা ক্রেমলিনকে ক্ষুব্ধ করেছে। সিরিয়া, লিবিয়াতে রাশিয়ার উপস্থিতির বিরোধিতা করেছে তুরস্ক। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতায়ও সরব ছিল আঙ্কারা।

ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট-এর গবেষণা পরিচালক অ্যারন স্টেইন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তুরস্ক ধারালো প্রান্ত ধরে হেঁটে চলেছে এবং রুশ নির্মিত এস-৪০০ মোতায়েন করলে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতায় গড়াবে। আর এরদোয়ানের জন্য এস-৪০০ তুরস্কের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে এটিকে বাদ দেওয়া তাদের জন্য সহজ কিছু হবে না।