https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশুক্রবার , ৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী, ‘কাশ্মির ফাইলস’ নির্মাতার বিরুদ্ধেই

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ২০, ২০২২ ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভারতজুড়ে এখন আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে একটি ছবি- ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’। অনেকে এটিকে পাপমোচনের ছবি বলেছেন আবার অনেকেই বলেছেন, ভারতকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রয়াস।

আর ছবিটির কারণেই এখন আলোচনায় এর পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। ’৯০-এর দশকে জম্মু-কাশ্মির থেকে শ’য়ে শ’য়ে কাশ্মিরি পণ্ডিতকে ঘরছাড়া করার ঘটনাকে সেলুলয়েডে তুলে ধরেছেন বিবেক। কিন্তু এই ছবি বানানোর আগে পর্যন্ত তিনি খুব একটা আলোচিত ছিলেন না। উল্টো বহু বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল তার নাম।

২০১৮ সালের ঘটনা। বলিউডের বাঙালি অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন ‘দ্য কাশ্মির ফাইলস’র পরিচালকের বিরুদ্ধে। আর সেই ঘটনাটাও অনেক পুরনো। তখন মাত্রই বিশ্বসুন্দরী তকমা পেয়েছেন নায়িকা। ২০০৫ সালে ‘চকোলেট: ডিপ ডার্ক সিক্রেটস’ ছবির শুটিংয়ের সময়ে ঘটনাটি ঘটে বলে তার দাবি।

তনুশ্রীর কথায়, ‘‘আমার শট ছিল না। আমি ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। ইরফান খানের মুখের ক্লোজআপ শট নেওয়া হচ্ছিল। আমি নিজের পোশাকের ওপর একটি তোয়ালে জড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিলাম। হঠাৎ পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী আমাকে বলেন, ‘যাও, ইরফানের সামনে গিয়ে কাপড় খুলে নাচো। তা হলে ইরফানের সুবিধা হবে অভিনয় করতে।’ আমি হতবাক হয়ে যাই এটা শুনে। কিন্তু ইরফান আমাকে রক্ষা করেন। তিনি বলেন, ‘আমার সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আমি অভিনেতা। কিছু না দেখলেও প্রয়োজনীয় অভিব্যক্তি ফুটে উঠবে আমার মুখে। কী সব বলছো তুমি? কাউকে কাপড় খুলে আমার সামনে নাচতে হবে না!’’

এই নায়িকা জানান, সেসময় সেটে সুনীল শেঠিও ছিলেন। তিনিই পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন। বলেন, ‘আমি সাহায্য করছি ইরফানকে। তনুশ্রীকে এ সব করতে হবে না।’

যদিও এই ঘটনার পর পুরো বিষয়টি বিবেক অস্বীকার করেন। দাবি করেন, তনুশ্রীর অভিযোগ মিথ্যা।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে ১ লাখেরও বেশি কাশ্মিরি পণ্ডিত তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তাদেরকে রাতারাতি গৃহহীন করা হয়েছিল। কাশ্মিরে মানুষ হত্যা ও আতঙ্ক ছড়ানোর কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সাল থেকে। বিট্টা কারাটা ওরফে ফারুক আহমেদ দার সেই সময় উপত্যকায় আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠেছিল। সে-ই কাশ্মিরি পণ্ডিতদের খুঁজে বের করে খুন করতো। তাকে নিয়েই সিনেমার গল্প এগিয়েছে।

ছবিটি নিয়ে বর্তমানে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। এটিকে হাতিয়ার হিসেবে বিজেপি ব্যবহার করছে বলে দাবি কংগ্রেসের। অনেকের মতে, এটাতে মুসলিম বিদ্বেষও ফুটে উঠেছে। কারণ সেখানে একটি মুসলমানকেও ভালো বলে উপস্থাপন করা হয়নি।

সিনেমাটির মুখ্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন অনুপম খের, দর্শন কুমার, মিঠুন চক্রবর্তী ও পল্লবী জোশি।