https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশুক্রবার , ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ইউপি সচিবকে মারধর, রাতে অফিস করতে না চাওয়ায়

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ২২, ২০২২ ৪:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনার কয়রায় রাতে অফিস করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ইকবাল হোসেন নামে ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিবকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২১ মার্চ) রাতে মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইকবাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী ইকবাল মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীও লীগের ত্রাণ সম্পাদক।

এদিকে মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন কয়রার সব সচিব ও হিসাবরক্ষকরা।

আহত সচিব ইকবাল বলেন, ‘চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই বিকেলে অফিসে আসেন। আর গভীর রাত পর্যন্ত অফিস করেন। এতে করে সেবা প্রত্যাশীরা ভোগান্তির সম্মুখীন হন। সোমবারও বিকেলে পরিষদে আসেন চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। কিন্তু বিকেল ৫টা বেজে যাওয়ায় আমি অফিস ত্যাগ করি। চেয়ারম্যান আমাকে অফিসে যেতে বললে আমি ৫টার পর অফিস করতে পারবো না বলে জানাই। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ইউপি পরিষদের কক্ষে আটকে রেখে আমাকে মারধর করেন চেয়ারম্যান ও আরও তিনজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা আমাকে মারধর করেন তারা। জীবনে এতো মার আমি কখনো খাইনি। তাদের পা ধরলেও আমাকে ছাড়েনি। এক সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে আমার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন।’

তবে মারধরের ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীও লীগের ত্রাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। তিনি বলেন, সচিবকে মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। মারধর করা হলে সে ইউএনও কিংবা ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিতো। সচিব ৭ ফেব্রুয়ারি এখানে যোগদান করেছে। সে কোনো দিন রাতে অফিস করেনি। আমার বিরুদ্ধে একটা মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম বলেন, এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। এমন ঘটনায় কয়রার চেয়ারম্যানদের জন্য খুবই বিব্রতকর। একজন চেয়ারম্যানের ভুলের কারণে আজ খুলনা জেলার প্রত্যেকটা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং হিসাবরক্ষকের তিনদিনের কর্মবিরতি দিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম মহসিন রেজা বলেন, আমি ঘটনা শুনে সেখানে গিয়েছি। সচিব ইকবালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি আমি জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকেও জানিয়েছি।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, সচিব সোমবার আমাদের লিখিত দিয়েছে যে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সে যদি অভিযোগ করে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন তাকে মারধর করেছে, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।