https://public-voice24.com/wp-content/uploads/2022/03/favicon.ico-300x300.png
ঢাকাশনিবার , ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সাংবাদিক মনির হত্যায় এক আসামির মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন

পাবলিক ভয়েস
মার্চ ২৭, ২০২২ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০১০ সালে বরিশালের মুলাদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন রাঢ়ী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাসেল রাঢ়ীর সাজা কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি মামলার অপর আসামি রাসেলের বাবা আলাউদ্দিন রাঢ়ী কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তার নাম আপিল শুনানি থেকে বাদ দিয়েছেন আদালত।

আসামির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি নিয়ে রবিবার (২৭ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত। আর রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন লিগ্যালএইডের প্যানেল আইনজীবী রিমি নাহরিন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর মুলাদী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দলিল উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেনের বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন আলাউদ্দিন রাঢ়ী ও তার ছেলেরা। এ সময় প্রতিবেশীরা চলাচলের পথ বন্ধ করার বিষয়টি সাংবাদিক মনির রাঢ়ীকে জানান। মনির প্রতিবেশীদের চলাচলের পথে প্রাচীর নির্মাণ না করতে আলাউদ্দিনকে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলাউদ্দিন ও তার সন্তানেরা মনিরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আলাউদ্দিনের নির্দেশে রাসেল মনিরের মাথায় কোদাল দিয়ে কোপ দেন। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মনির মারা যান।

পরে মনিরের ভাই জসিম উদ্দিন মুলাদী থানায় আলাউদ্দিন, তার দুই ছেলে, স্ত্রী আলেয়া বেগম ও প্রতিবেশী মোতালেব রাঢ়ীকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।

২০১১ সালের ১৭ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কায়কোবাদ ওই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০১৪ সালের ২ জুলাই মামলার এক আসামি মোতালেব রাঢ়ী মারা যান। ২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আলেয়া বেগমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। এরপর আলাউদ্দিন এবং তার দুই ছেলে সোহাগ রাঢ়ী ও রাসেল রাঢ়ীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

পরে ২০১৬ সালে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সুদীপ্ত দাস দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আলাউদ্দিন রাঢ়ী ও রাসেল রাঢ়ী। তারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন রাঢ়ী নিহত সাংবাদিক মনির রাঢ়ীর চাচাতো ভাই। তবে এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলাউদ্দিনের ছেলে সোহাগ রাঢ়ীকে খালাস দেন আদালত।

পরে এই মামলায় খালাস চেয়ে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।