Sunday 2nd October 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

একটি সংস্থার মনিটরিংয়ে থাকতে চান রেস্তোরাঁ মালিকরা

মার্চ ৩১, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

দেশের রেস্তোরাঁগুলোকে বর্তমানে ১২টি সংস্থা মনিটরিং করে থাকে। তাতে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা, অযাচিত হস্তক্ষেপ ও বিড়ম্বনায় মুখে পড়তে হচ্ছে রেস্তোরাঁগুলোকে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। এজন্য অবিলম্বে টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠন করে একটি সংস্থার অধীনে রেস্তোরাঁগুলোকে আনার দাবি জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এতগুলো সংস্থার তদারকিতে যে অরাজকতা চলছে, এ ব্যাপরে কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারকে বাস্তবায়ন না করার জন্য কোনও একটা পক্ষ ষড়যন্ত্র করে এ অবস্থা তৈরি করেছে। তাই অবিলম্বে টাস্কফোর্স বা কমিশন গঠন করে একটি সংস্থার অধীনে রেস্তোরাঁগুলোকে আনতে হবে। না হলে আমরা  ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে সব রেস্তোরাঁর চাবি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করবো।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা অধিদফতর বিক্ষিপ্তভাবে তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। কোনও ম্যাজিস্ট্রেট আসলে ক্ষোভ ঝাড়েন রেস্তোরাঁ মালিকদের ওপর। সবাই রেস্তেরাঁকে নেতিবাচক চোখে দেখেন। পান থেকে চুন খসলেই বিশাল শাস্তি দেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও বিশেষজ্ঞ ছাড়াই, কোনও অভিজ্ঞ লোক ছাড়াই যে যেভাবে পারছে, জরিমানার নামে ভীতি দেখিয়ে আমাদের ব্যবসা নষ্ট করছে। তারা যেন রেস্তেরাঁকে জরিমানা করার জন্য অতিউৎসাহী।’

ইমরান হাসান বলেন, ‘আমাদের সেক্টরের ৯৫ শতাংশ কর্মী অদক্ষ, স্বল্প শিক্ষিত। তাদেরকে আগে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। আমাদের একটি পুর্ণাঙ্গ গাইডলাইন হিসেবে এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) দিন। এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কোনোদিনই খাদ্যের মান ভালো করা যাবে না। জরিমানা করা, হাতে হাতকড়া লাগানো কোনও সমাধান নয়।’

আসন্ন রমজানে আরও বড় খড়গ নামবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে প্রতিবারের মতো এবারও রমজানে বিশাল খড়গ নেমে আসবে। আমরা পবিত্রতা রক্ষায় ইফতারি, সেহেরিসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য নিরাপদ করার জন্য সবোর্চ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকবো। তারপরও বিভিন্ন আইনের মারপ্যাচে ফেলে বিপদের মুখে ঠেলে দেবেন বিভিন্ন সংস্থার মোবাইলকোর্ট। যেখানে সেখানে রেস্তেরাঁকে জরিমানা করা হবে।’

বিগত করোনা পরবর্তী সময়ে এ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘ক্ষতিগ্রস্ত সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেস্তোরাঁগুলো। তারপরেও আমরা সরকারের কোনও প্রণোদনা না পেয়েছি, না কোনও সাহায্য পেয়েছি। এখন আর সেটা চাই না, আমরা সরকারের কাছে এসএমই খাত থেকে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ চাই। আর বাংলাদেশ ব্যাংক এ ঋণের জন্য মালিকদের স্ব স্ব ব্যাংকে নির্দেশ দিলেও তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ব্যাংকগুলো।’

দীর্ঘদিনের এসব অরাজগতার বিষয়ে প্রাধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে মহাসচিব বলেন, ‘রেস্তোরাঁ খাতের এ অবস্থা দূরভীসন্ধিমূলক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র। সরকারকে এবং মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে হেনস্থা করে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আপনি বিশেষজ্ঞ কাউকে দিয়ে একটু খতিয়ে দেখুন। এই মাঠপর্যায়ে যে অসন্তোষ বিরাজ করছে, তা আপনার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে অত্যাচার-অনাচার সব কিছু মিলে এখন আমাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প নাই।’

অনুষ্ঠানে রেস্তেরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি ওসমান গনি বলেন, ‘আমাদের যদি কোনও ভুল থাকে, তবে সেটা সংশোধন করুন। সময় দেন সবকিছু ঠিকভাবে চালানোর জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিনের এসব ব্যবসায়ীকে রাস্তায় নামিয়ে দেবেন না। আমরা হয়রানি-প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সঠিক সুন্দরভাবে ব্যবসা করতে চাই।’

সংগঠনটির প্রথম যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন বলেন, ‘আমরা মোবাইল কোর্টের বিরুদ্ধে না, মোবাইল কোর্ট চলুক যৌক্তিকভাবে। মানবিকভাবে বিষয়গুলো দেখা হোক এবং আমাদের প্রতিনিধি রাখা হোক। কিন্তু সেটা না করে জরিমানার মানিসকতা নিয়ে মোবাইল কোর্ট হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটরা অতিউৎসাহী হয়ে পড়ছেন। আমাদের অত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয় না। বরং কথা বললেই জরিমানা বাড়ে। নীরব চাঁদাবাজিও হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.