Sunday 2nd October 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

সব অপারেটর স্পেকট্রাম কিনলো, কলড্রপ কমবে তো?

মার্চ ৩১, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

দু’টি ব্যান্ডের ২২০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের (তরঙ্গ) মধ্যে ১৯০ মেগাহার্টজ নিলামে বিক্রি হলো। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত নিলামে দেশের চারটি মোবাইলফোন অপারেটরই তরঙ্গ কিনেছে। সব অপারেটরেরই তরঙ্গ এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে নিয়মিত কলড্রপ, নেটওয়ার্ক না থাকা, মোবাইল ইন্টারনেটের ধীরগতি, ভিডিও চলার সময় বাফারিং হওয়া, ইত্যাদি আর থাকবে না বলে মনে করেন অপারেটরগুলোর সংশ্লিষ্টরা। তবে এজন্য সময় প্রয়োজন।

যদিও এখনই এসব তরঙ্গ অপারেটররা ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রয়কৃত তরঙ্গের মূল্য (নিলাম নিয়ম অনুসারে) পরিশোধের পরে তা ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পাওয়া যাবে। ফলে কলড্রপ আপাতত না কমলেও নতুন তরঙ্গ আগের তরঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরে মোবাইল সেবার মান উন্নত হতে পারে।

উল্লেখ্য, নতুন তরঙ্গ দিয়ে ফাইভ-জি ছাড়াও থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্কে সেবা দিতে পারবে অপারেটররা।

নতুন তরঙ্গ যুক্ত হলে মোবাইল অপারেটরগুলো আগের তুলনায় গ্রাহককে আরও ভালো সেবা দিতে পারবে। বর্তমানে এক মেগাহার্টজ স্পেকট্রামে গ্রামীণফোন ১৪ লাখ, রবি ১১ লাখ এবং বাংলালিংক প্রায় ৯ লাখ গ্রাহককে সেবা দেয়। নতুন স্পেকট্রাম যুক্ত হওয়ার পরে গ্রামীণফোন ৭ লাখ ৭০ হাজার, রবি ৫ লাখ ২০ হাজার, বাংলালিংক ৪ লাখ ৭০ হাজার এবং টেলিটক ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহককে সেবা দিতে পারবে। ৯ মাসের মধ্যে এই স্পেকট্রামে ফাইভ-জি সেবা চালু করার কথা বলা হয়েছে। যদিও অপারেটররা বলছেন, পরীক্ষামূলক ফাইভ-জি চালু করতে হলে তাদের ৯ থেকে ১২ মাস সময় লেগে যাবে। যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমোদনসহ তা আমদানি করতে হবে। ইমপ্লিমেন্টেশন করতে সময় লাগবে। বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। ফলে বিষয়টি সহজ হবে না।

বেসরকারি অপারেটরগুলোর মধ্যে বাংলালিংক গ্রাহক সেবায় এগিয়ে থাকবে (মেগাহার্টজ প্রতি)। এখনও এই অপারেটরটি গ্রাহক সেবায় এগিয়ে আছে।

এই নিলামের আগে গ্রামীণফোনের মোট তরঙ্গ ছিল ৪৭.৪০ মেগাহার্টজ। রবি ও এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর রবির তরঙ্গের পরিমাণ ছিল ৪৪ মেগাহার্টজ। অপরদিকে বাংলালিংকের তরঙ্গ ছিল ৪০ মেগাহার্টজ। আর টেলিটকের হাতে ছিল ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।

অপারেটরগুলো বৃহস্পতিবারের নিলাম থেকে তরঙ্গ কিনলো (২.৩ এবং ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে) গ্রামীণফোন ও রবি ৬০ মেগাহার্টজ করে। বাংলালিংক ও টেলিটক যথাক্রমে ৪০ এবং ৩০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনে।

নতুন করে তরঙ্গ কেনার ফলে সব অপারেটরের মোট তরঙ্গের পরিমাণ হবে গ্রামীণফোনের ১০৭.৪০, রবির ১০৪, বাংলালিংকের ৮০ এবং টেলিটকের ৫৫.২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। ফলে দ্বিগুণের বেশি তরঙ্গ নিয়ে অপারেটরগুলোর কোয়ালিটি অব সার্ভিস ভালো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।

একই কথা বললেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘এই বিপুল পরিমাণ তরঙ্গ নিয়ে অপারেটরগুলো মানসম্মত সেবা দিতে সক্ষম হবে বলে আমি মনে করি।’ এতদিন তাদের যে— তরঙ্গ নেই, তরঙ্গ চাই, সেই অভাব দূর হলো। কলড্রপ, নেটওয়ার্ক না থাকার মতো সমস্যা দূর হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

তিনি গ্রামীণফোনকে সেবার দিক দিয়ে নিকৃষ্ট হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘কোনও বিকল্প না থাকায় ব্যবহারকারীরা বাধ্য হয়ে গ্রামীণফোনে থেকে যায়। রবি বা বাংলালিংকে যে যাবে, ওদের অবস্থাও খারাপ। ভেবেছিলাম রবি ভালো বিকল্প হতে পারবে। কিন্তু অপারেটরটির সাবেক প্রধান নির্বাহী (মাহতাবউদ্দিন আহমেদ) চলে যাওয়ার পর থেকে ওদের অবস্থা আরও  খারাপ হয়েছে।’

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, ‘৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কেনার মাধ্যমে দেশের মানুষের ডিজিটাল সম্ভাবনা উম্মোচনে আমাদের অঙ্গীকারকেই পুর্নব্যক্ত করছে। গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার আরও উন্নয়ন এবং সেবার মান উন্নয়ন সব সময়ই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে আমাদের তরঙ্গের ব্যবহার গ্রাহকদের আরও  উন্নত ফোরজি সেবা প্রদানে সহায়ক হবে।’

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘এই নিলাম থেকে আমরা ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৬০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।’

আমরা বিশ্বাস করি, এই তরঙ্গ আমাদের নেটওয়ার্কে সেবার মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে এবং আমাদের গ্রাহকদের আরও ভালো ডিজিটাল অভিজ্ঞতা পেতে সাহায্য করবে।’

২.৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে নতুনভাবে ৪০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কেনার ফলে বাংলালিংকের স্পেকট্রাম শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অপারেটরটির বর্তমানে মোট স্পেকট্রা‌মের পরিমাণ ৮০ মেগাহার্জ।

এই স্পেকট্রাম বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, দ্রুততর ইন্টারনেট এবং উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা প্রদানে সহায়ক হবে।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী এরিক অস বলেন, ‘তরঙ্গ নিলাম টেলিকম খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। আরও বেশি পরিমাণ তরঙ্গ ব্যবহারের ফলে দেশের মানুষ এখন দ্রুততর ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সেবা পাবে। সব গ্রাহকের জন্য ফোরজি, নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহকের জন্য ফাইভজি নয়— বাংলালিংকের এই লক্ষ্য অনুযায়ী, আমরা আগামী ২ থেকে ৩ বছর নতুন তরঙ্গ প্রাথমিকভাবে ফোরজি’র জন্য ব্যবহার করবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.