Saturday 24th September 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

সাত দফা দাবি, কার্টন উৎপাদন শিল্প ‘বাঁচাতে’

এপ্রিল ২, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

কাগজের ‘অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি’ কমিয়ে আনতে এবং কার্টন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ‘বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করতে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ লোকাল কার্টন ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ এক মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের জন্য কার্টন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান একটি ক্রমবর্ধমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত। এই শিল্পখাতে প্রায় ৪ হাজার (লোকাল ও বন্ডেড) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং এগুলোতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৬ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। প্যাকেজিং শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে শতাধিক পেপারমিল রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৭০টি পেপার মিল দেশের প্রায় ৪ হাজার (লোকাল ও বন্ডেড) প্যাকেজিং শিল্পে কাগজ সরবরাহ করে আসছে। পেপার মিলগুলোর প্রধান উপকরণ হলো প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠানের ওয়েস্টেজ কাগজ, যা প্যাকেজিং শিল্প থেকেই নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রতিবছর মিথ্যা অজুহাতে প্যাকেজিং কাগজের মূল্য বৃদ্ধি করে প্যাকেজিং মালিকদের সর্বশান্ত করে ফেলেছে।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কাগজের মূল্য ৪৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পেয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘মূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রায় শতাধিক প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কার্টন ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কার্টনের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ না করায় চলমান প্যাকেজিং কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার পথে। পক্ষান্তরে সরকারের বৈষম্যমূলক রাজস্বনীতি প্যাকেজিং শিল্প দায়-দেনা বৃদ্ধি হয়ে এক নৈরাজ্যময় অবস্থায় দিন পার করতে হচ্ছে।’

এ অবস্থায় লোকাল ও বন্ডেড ৪ হাজার প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ১৬ লাখ কর্মজীবীর রক্ষার স্বার্থে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

মানববন্ধনের তারা বছর বছর সিন্ডিকেট করে বিনা নোটিশে কাগজের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, ১০০ শতাংশ কাগজের মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা, ৮০ শতাংশ কাগজকল মালিকদের ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া ও প্রতিটি পেপার মিলের বিদ্যুৎ বিল ও গ্যাস বিল নিরীক্ষা করে উৎপাদিত কাগজের পরিমাণ নির্ণয়সহ ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকির পরিমাণ নির্ণয় করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সেই সঙ্গে প্যাকেজিং শিল্পকে বাঁচানোর জন্য আমদানি ক্ষেত্রে সিডি প্রত্যাহার করে কাগজের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়া, ১৯১৮-১৯ অর্থ বছরের আগের এআইটি আইন পুনর্বহাল করে ১০০ শতাংশ এআইটি কর্তন এবং সরকারের বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা লোকসানি কাগজকলগুলো আয় থেকে দায় শোধ প্রক্রিয়ায় কার্টন প্রস্তুতকারী সেক্টরের নিকট হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এসময় সংগঠনের সভাপতি এম এ বাশার পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মীর রায়হান আরিফ, সহ-সভাপতি সৈয়দ ফখরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.