Thursday 29th September 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

মানতাশা আহমেদঃ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াবেন নারী উদ্যোক্তারা

এপ্রিল ৩, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য ভারতের বাজারগুলোতে নেওয়া যাতে সহজ হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিল (বিআইবিসি)। শনিবার (২ এপ্রিল) দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটা জানালেন বিআইবিসির সভাপতি মানতাশা আহমেদ। তিনি মনে করেন, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে এই সংগঠন বড় ভূমিকা রাখবে।

মানতাশা আহমেদ: বিআইবিসি মূলত উইম্যান ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তথা ‘উইকি’র একটি বাই ল্যাটারাল কাউন্সিল। ২০২০ সালের জুলাইতে এর যাত্রা শুরু।

প্রথম মাসেই পুরো কাউন্সিল তৈরি হয়। ২৫ সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল। এর মধ্যে চার জন আছেন উপদেষ্টা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উইম্যান ইন্ডিয়ান চেম্বার থেকে অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর বিআইবিসির সভাপতি মনোনীত হই আমি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় নারী ব্যবসায়ী ও করপোরেট আইকন যারা, তাদের অনেকেই আমাদের কাউন্সিলে যুক্ত। তাই আমরা মনে করি এই কাউন্সিল নারীর ক্ষমতায়নেরও একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

এই কাউন্সিলের মূল প্রতিপাদ্য হলো— অন্যদের কী দিতে পারবো। তাই মেম্বারশিপ দেওয়ার সময় আমরা দেখছি, যিনি মেম্বার হবেন, তিনি অন্য নারীদের কী দিতে পারবেন। এখন পর্যন্ত যারা এই কাউন্সিলে সম্পৃক্ত তারা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। কাজেই আমরা মনে করি আমাদের এখন অবদান রাখার পালা।

ধীরে ধীরে সংগঠনের সদস্য বাড়ছে। এখন পর্যন্ত বাই ইনভাইটেশন মেম্বারশিপ পদ্ধতি চালু আছে। ভবিষ্যতে কর্মকাণ্ড বাড়লে সদস্যও বাড়বে। তখন মেম্বারশিপ পদ্ধতি বদলে যাবে।

মানতাশা আহমেদ: আমাদের বড় লক্ষ্য—  নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বিআইবিসি’র আলোচনা হয়েছে। ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা জোর দিচ্ছি।

বিশেষ করে আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভারতের বাজার খুঁজে বের করা একটি বড় লক্ষ্য।

এছাড়া দেশের নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে  ভারতীয় বিনিয়োগ কীভাবে পেতে পারি, তাতেও জোর দিচ্ছি।

সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছি। ২৮ মার্চ এই স্মারক সই হয়। চুক্তির আওতায় বিআইবিসি’র নারী উদ্যোক্তা সদস্যরা ইউল্যাবের নারী শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন।

যারা মেন্টর হিসেবে কাজ করেন, তারা সাধারণত বড় অঙ্কের ফি নিয়ে থাকেন। কিন্তু চুক্তির ফলে আমরা ইউল্যাবের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও ফি নেবো না।

মানতাশা আহমেদ: আশা করছি এ বছর আমরা ভারতে বেশ কয়েকটি সফর করবো। সেখানে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা করছে। উইম্যান ইন্ডিয়ান চেম্বারও সহযোগিতা করছে।

এ বছর আরও দুই-তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হবে। মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হবে। আরেকটা পরিকল্পনা আছে—  বাংলাদেশের শীর্ষ সব নারী উদ্যোক্তাকে ভারত সফরে নিয়ে যাওয়া।

আমাদের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যটা হলো— এ বছর আমরা স্টুডেন্টদের সঙ্গে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম করবো। আগামী বছর এ প্রোগ্রাম করবো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। উদ্যোক্তারা কীভাবে ঋণ পেতে পারেন, কীভাবে ঋণ নিয়ে লাভবান হতে পারেন, উদ্যোক্তাদের কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যেতে পারে, এগুলো নিয়ে প্রোগ্রাম হবে।

কাদের সঙ্গে কাজ করবো, কাদের এগিয়ে আনবো, পাশে দাঁড়াবো— এগুলো নিয়েও কাজ হচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছি।

ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের কীভাবে সংযোগ তৈরি হবে সেটা নিয়ে কাজ করবো।

গত নভেম্বর ১২ জন সফল নারী উদ্যোক্তাকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। আওয়ার্ডটি এসেছে উইম্যান ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স-এর পক্ষ থেকে। ইন্ডিয়ান চেম্বারের অ্যাওয়ার্ড প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দেওয়া হয়েছে এই কাউন্সিলের মাধ্যমে। জুরিবোর্ডে উভয় দেশের লোকজন ছিলেন।

মানতাশা আহমেদ: দেশের যে নারীরা ব্যবসা শুরু করেছেন, তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা আছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের যুক্ত করে দেওয়ার জন্য আমাদের একটা প্রচেষ্টা থাকবে।

করোনার কারণে অনেক কাজ করতে পারিনি। এখন করোনার প্রভাব কমে এসেছে। কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরাসরি অনেক মিটিং করতে পারবো।

করোনার মধ্যেও বেশ কিছু প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা ভার্চুয়ালি বেশ কিছু প্রোগ্রাম করেছি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিশ্বের নামিদামি অনেকে।

মানতাশা আহমেদ: ইনফরমাল ভাবে হয়তো অনেক নারী ভারতের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। তবে কত নারী উদ্যোক্তা ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, এর কোনও ডাটা নেই। আমরা সেই ডাটা তৈরির কাজও করবো।

আমরা সেভেন সিস্টারস— বিশেষ করে আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরাকে ফোকাস করার চেষ্টা করছি। এসব জায়গা বাংলাদেশের খুব কাছে। ফলে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সহজেই সেখানে ব্যবসা বাড়াতে পারেন। কিন্তু বাণিজ্য সম্পর্ক না থাকার কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আগে সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে চাই।

আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য, বিশেষ করে কনজিউমার আইটেমগুলো আসাম, মিজোরাম বা ত্রিপুরায় ঢুকতে পারছে না। যখন আমরা ক্ষুদ্র কুটির শিল্প, আচার, প্লাস্টিক পণ্য এসব নিয়ে তাদের বাজারে ঢুকতে পারবো, তখন সম্পর্ক আরও ভালো হবে। কারণ, আমাদের কনজিউমার পণ্যের বড় একটি মার্কেট আছে। এক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের সমর্থন লাগবে।

মানতাশা আহমেদ: ইতোমধ্যে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের সঙ্গে দেখা করেছি। আইসিটি সেক্টরের জন্য কিছু প্রপোজাল দিয়েছি।

ইন্ডিয়ান হাইকমিশনকে আমাদের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে স্টার্টআপ ফাইন্যান্স হিসেবে আমাদের দেশে বিনিয়োগ আসছে, কিন্তু পাশের দেশ ভারত থেকে আসছে না। ভারত থেকে যেন আমরা স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পেতে পারি, আর পাশাপাশি যাতে অন্যসব বাধা দূর করতে পারি সেগুলো নিয়ে আমরা সফর করবো।

মানতাশা আহমেদ: ছোট-বড় সব নারী উদ্যোক্তাকেই সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিল। যারা ছোট উদ্যোক্তা— হয়তো আচার বানাচ্ছে— তাদের সে পণ্য যাতে ভারতের বাজারে যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি।

ভারতে খুব বেশি ধরনের আচার পাওয়া যায় না, ফলে সেখানকার বাজার পাওয়াটা আমাদের জন্য সহজ হবে।

আমাদের হ্যান্ডিক্রাফট আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপক জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে ভারতের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমাদের নারীরা কাজ করতে পারে।

কীভাবে বড় উদ্যোক্তা হতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা পরামর্শ দেবো মেন্টর হিসেবে। ভবিষ্যতে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.