Thursday 6th October 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

জাবির ৬৫ কোটি টাকার হিসাব মেলেনি

এপ্রিল ৬, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গত চার অর্থবছরে অডিট আপত্তি দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি ১৪ খাতের হিসাব নিরীক্ষার পর এই অডিট আপত্তি জানিয়েছে শিক্ষা অডিট অধিদফতরের নিরীক্ষা দল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাবির ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ এই চার বছরের অডিটের প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম দফা অডিটের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়। পরে আবার অর্ধশত খাতের তথ্য চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২০ মার্চ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় অডিট কার্যক্রম করা হয়।

প্রথম দফায় সম্পন্ন আংশিক অডিট আপত্তিতে ১৪টি খাতের অডিট আপত্তি ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৩ টাকা। এই ১৪ খাত ছাড়াও আরও দুটি খাতের হিসাব ঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলেও অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অন্তত চল্লিশটি বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অডিট কর্মকর্তা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের কয়েকটি খাতে আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে। এসব খাতে সরকার কোনও অর্থ বরাদ্দ না দিলেও শিক্ষকদের এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা, বই ভাতা, সরকারি বাসায় বসবাসকারীদের কম হারে বাড়ি ভাড়া কর্তন ও শিক্ষকদের গবেষণার বিপরীতে সম্মানি থেকে শর্ত মোতাবেক কমপ্লায়েন্স না দেওয়ায় এই চার খাতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ছয় হাজার ২১১ টাকা।

পরীক্ষার সম্মানি বিল থেকে আয়কর কর্তন না করায় রাজস্ব ক্ষতি হয় এক কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ টাকা। ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করেও সম্মানি নেওয়ায় চার লাখ ৩৮ হাজার ৬০৭ টাকা ক্ষতি হয়। প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফরমের ৪০ শতাংশর কম টাকা তহবিলে জমা করায় সাত কোটি ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার ২৮০ টাকা ক্ষতি হয়।

এছাড়া অনুমোদিত টিওঅ্যান্ডই প্রাধিকার ছাড়াই নতুন বাস কেনায় অনিয়মিত ব্যয় ৬০ লাখ ১৪ হাজার ২৫ টাকা। আইটেমের মেটেরিয়াল টেস্ট রেট সিডিউল সংখ্যা অপেক্ষা কম করায় টেস্ট ফি বাবদ সরকারের অর্থিক ক্ষতি চার লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অডিট আপত্তিতে পিআর ২০০৮ অনুযায়ী ক্রয় সংক্রান্ত সব নথি চুক্তির নথিতে সংরক্ষণ না করায় তথ্যের ঘাটতির কারণে সাংবিধানিক নিরীক্ষা কাজ ব্যাহত হওয়ায় এ খাতের ব্যয়ের সঠিকতা যাচাই করা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে এ খাতে অংশিক ক্ষতি দুই কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া উন্মুক্ত দরপত্রের বিপরীতে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগে অর্থিক ক্ষতি তিন কোটি ২৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। পিপিআর ২০০৮ লঙ্ঘন করে অনিয়মিতভাবে আরএফকিউ পদ্ধতিতে বার্ষিক সিলিং অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯২১ টাকা। মেরামত ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি এক কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

অডিট আপত্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বার্ষিক হিসাবে রেকারিং ফান্ডের স্থিতি ব্যাংক স্থিতির চেয়ে কম প্রদর্শন করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩৩ কোটি ২১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০২ টাকা। এছাড়া একই অডিট মেমোতে জাবিতে চলমান সান্ধ্যকালীন কোর্সের কোনও হিসাব বার্ষিক বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং অডিট কমিটির সামনেও উপস্থাপন করা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যয় না করে ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের হঠকারী সিদ্ধান্তে ব্যয় বাড়ানোর কারণে অডিট আপত্তি উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে অডিট কমিটির প্রধান বাবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক নূরুল আলম বলেন, অডিট অধিদফতর থেকে চিঠির মাধ্যমে যেসব তথ্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে আমি সেসব বা সংশ্লিষ্ট অফিসকে যথাযথ তথ্য উপস্থাপনের জন্য বলেছি। নিয়ম অনুযায়ী আমরা তথ্য উপস্থাপন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.