Saturday 24th September 2022

পাবলিক ভয়েস

পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি কণ্ঠস্বর

৪ বছরেও সেতু সংস্কার হয়নি

এপ্রিল ৬, ২০২২ by পাবলিক ভয়েস
No Comments

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ঝারকাটা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর মাঝের অংশ চার বছর আগে ধসে গেছে। আজও সেতুটি সংস্কার করা হয়নি। এতে নদী পারাপারে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে ঘোষেরপাড়া মিলন বাজার ও উত্তরে রয়েছে গোদার বাজার ও ইউনিয়নের পুরাতন তালুকপাড়া বাজার। পূর্ব ছবিলাপুর, বীর ঘোষেরপাড়াসহ পাঁচ গ্রামের সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাতায়াত ও বিভিন্ন কাজে নদী পাড়ি দিতে হয়। অন্যদিকে ঘোষেরপাড়া, পূর্ব ছবিলাপুর, টিকাদার পাড়াসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আসে বেলতৈল উচ্চ বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায়। ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সেতুটির মাঝের অংশ ধসে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, নদী পাড়ি দিতে দক্ষিণ পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একদল শিক্ষার্থী। উত্তর পাড়ের বিদ্যালয়ে আসবে তারা। এখন তাদের পারাপাড়ের একমাত্র ভরসানৌকা। প্রতিদিন নৌকা দিয়েই পার হতে হয় তাদের। একটি ছোট নৌকায় গাদাগাদি করে উঠেছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ‌‘সকাল ৮টার মধ্যে এসে নৌকায় নদী পারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কার আগে কে উঠবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। অনেকে নদী পার না হয়ে পাঁচ কিলোমটার পথ ঘুরেই বিদ্যালয়ে যায়।’

ঘোষেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা খোশমামুদ মন্ডল জানান, সেতু সচল না থাকায় এখন ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ ঘুরে জেলা, উপজেলা সদর ও ইউনিয়ন পরিষদ বেলতৈল বাজারে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে নৌকায় পারাপার খুবই ঝূঁকিপূর্ণ।

বেলতৈল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ’ জন শিক্ষার্থী ও তিন জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন। নদীর পারাপারে ভরসা ছিল সেতুটি। এখন সেতু সচল না থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরমে।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম লিটু বলেন, বন্যায় সেতুটি ভেঙে গেছে। সেতুর ওপর দিয়ে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্তা চলাচল করতো। এখন ভাঙা থাকায় এলাকার লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে। সেতুটি সংস্কার করা হলে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিরল রায় বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য বরাদ্দের চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনও বরাদ্দ বা আদেশ আসেনি। বরাদ্দ আসলেই ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুটি সংস্কার করা অথবা আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন বরাদ্দ আসলেই কাজ শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.